নির্ব্বাণ

বিজয়চন্দ্র মজুমদার (1861–1942)

পঞ্চক মালা

জিজ্ঞাসু— কপিল ঋষি-উষিত পুরীভূষিত করি কিরণে,দেবতা ও কে আসিল লোকে সঞ্চারি?অমর বালা জ্যোতির মালাদোলায়ে নভ-তোরণেনমিছে রাঙ্গা আঙ্গুলে বাঁধি অঞ্জলি!

জাগ্রত— কুমার আজি রাজাধিরাজবেশে প্রবেশে ভবনে;দেব ও দেবী, এস গো অভিনন্দিতে;তরিবে যদি ভব জলধিহেরি সুগতে নয়নে,—জগতজন, এস, চরণ বন্দিতে।

(কথা)

শুদ্ধোদন, দেবী গোতমীলভি আমনি বার্ত্তা—আকুল আঁখি জুড়াল, দেখি নন্দনে।

মরণ-গত অমৃত-পথহেরিল যেন আত্মা;সুধার ধারা ঝরে অধীর ক্রন্দনে।সজল আঁখি যুগল মুছি——অর্দ্ধ-অবগুণ্ঠিতা,—হেরি’ পতির জগদতীত দীপ্তি,চরণ মূলে নয়ন তুলেরহিল ধূলি-লুণ্ঠিতা;শাক্যকুল লভিল নব তৃপ্তি।উদ্ধোধিয়া মুগ্ধ প্রাণীবুদ্ধবাণী ক্ষরিল;ঝরিল ভবে স্নিগ্ধ নব শান্তি;বিরহ-শোক- বিগত লোক,জীর্ণ জরা মরিল;নাহিরে দেহে শ্রান্তি —মনে ভ্রান্তি।

(শুদ্ধোদন)আমি জনক; পালক তুমি!কুল-পাবন পুত্র!শুষ্ক মরু, করুণাধারে ভরিলে।

মুছিয়ে বাধা, আঁধার ধাঁধা,অন্ধে দিলে নেত্র;জীবন-তরু। তরুণ করি গড়িলে।

(গোতমী)

এস, নয়ন পুতলি সুত,উতলা চিত মাঝারে!করিয়াছিলে স্তন্যপানে ধন্যা!আজি যে তব ধর্ম্মে, নবজন্ম লভি’, বাছারে,হইনু,—লোক জনক! তব কন্যা!

(কথা)শ্রীপদ-সেবা করিতে ষেবাছিলরে অধিকারিণী-অগাধ যা’র চিত্ত ভরা ভক্তি,চাহি’ শ্রীমুখ পানে, সে মূকভাষায় যেন কামিনীযাচিল প্রাণে প্রাণেশ সেবা-শক্তি।

যাচিল, প্রিয় রাহুল তরে,বহুল প্রীতি-বিত্ত,বিনয়ে শীলে ভূষিতে শিশু সন্তান;যেন রে সুত, সাধনা-পূতদৃষ্টি লভি’ নিত্য,পতির, মত লভে অমৃত নির্ব্বাণ।

(গাথা)গাহে কাশ্যপ মুনি শাশ্বত বাণী,বিস্মিত শুনি বিশ্ব।রাজা অধিরাজ, ভিখারী-সমাজ,হইল সুগত-শিষ্য।ভণে পুণ্য বিনয় বর্ণন করিঅগ্রগণ্য উপালি।কি গৃহী, শ্রমণ, কিবা ব্রাহ্মণ,ধন্য শুনি সে গাথালী।কহে আনন্দ দেব-বন্দিত কথা;স্তম্ভিত নর, মন্ত্রে।

অতীব শুদ্ধ বিবিধ সুত্তধ্বনিত হৃদয় যন্ত্রে।গাহে থের থেরী পূত গাথা অগণন।বাধা কোথা ব্যথা ভয়ে?জীবনে বর্ম্ম শ্রীঅভিধর্ম্ম(২),জন্ম-মরণ-জয়ে।