নগর লক্ষ্মী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

কথা

দুর্ভিক্ষ শ্রাবন্তিপুরে যবেজাগিয়া উঠিল হাহারবে,—বুদ্ধ নিজ ভক্তগণে শুধালেন জনে জনে।ক্ষুধিতেরে অন্নদানসেবাতােমরা লইবে বল কেবা!

শুনি তাহা রত্নাকর শেঠকরিয়া রহিল মাথা হেঁট।কহিল সে কর বুড়ি— ক্ষুধার্ত বিশালপুরী,এর ক্ষুধা মিটাইব আমিএমন ক্ষমতা নাই স্বামী!

কহিল সামন্ত জয়সেন -যে আদেশ প্রভু করিছেনতাহা লইতাম শিরে যদি মাের বুক চিরেরক্ত দিলে হত কোন কাজ,মাের ঘরে অন্ন কোথা আজ?

নিশ্বাসিয়া কহে ধর্ম্মপালকি কব, এমন দগ্ধ ভাল,—আমার সােনার ক্ষেত শুষিছে অজন্ম প্রেত,রাজকর যােগান কঠিন,হয়েছি অক্ষম দীনহীন।

রহে সবে মুখে মুখে চাহি,কাহারো উত্তর কিছু নাহি।নির্ব্বাক্ সে সভাঘরে, ব্যথিত নগরীপরেবুদ্ধের করুণ আঁখি দুটিসন্ধ্যাতারাসম রহে ফুটি।

তখন উঠিল ধীরে ধীরেরক্ত ভাল লাজনম্র শিরেঅনাথ-পিণ্ডদ-সুতা বেদনায় অশ্রুপ্লতাবুদ্ধের চরণরেণু লয়েমধুকণ্ঠে কহিল বিনয়েঃ-

ভিক্ষুণীর অধম সুপ্রিয়াতব আজ্ঞা লইল বহিয়া।কাঁদে যারা খাদ্যহারা আমার সন্তান তারা;নগরীরে অন্ন বিলাবারআমি আজি লইলাম ভার।

বিস্ময় মানিল সবে শুনি:—ভিক্ষুকন্যা তুমি যে ভিক্ষুণী-কোন্ অহঙ্কারে মাতি লইলে মস্তক পাতিএ হেন কঠিন গুরু কাজ!কি আছে তােমার, কহ আজ!

কহিল সে নমি সব কাছে—শুধু এই ভিক্ষাপাত্র আছে।আমি দীনহীন মেয়ে অক্ষম সবার চেয়ে,তাই তােমাদের পাব দয়াপ্রভু আজ্ঞা হইবে বিজয়া।

আমার ভাণ্ডার আছে ভরেতোম সবাকার ঘরে ঘরে।তােমরা চাহিলে সবে এ পাত্র অক্ষয় হবে,ভিক্ষা-অন্নে বাঁচাব বসুধা-মিটাইব দুর্ভিক্ষের ক্ষুধা।