নকল গড়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

কথা

জলস্পর্শ করব না আর—চিতোর-রাণার পণ—বুঁদির কেল্লা মাটির পরেথাকবে যতক্ষণ।কী প্রতিজ্ঞা, হায় মহারাজ,মানুষের যা অসাধ্য কাজ

কেমন ক’রে সাধবে তা আজ।কহেন মন্ত্রীগণ।কহেন রাজা, সাধ্য না হয়সাধব আমার পণ।

বুঁদির কেল্লা চিতোর হতেযোজন তিনেক দূর।সেথায় হারাবংশী সবাইমহা মহা শূর।হামু রাজা দিচ্ছে থানাভয় কারে কয় নাইকো জানা,তাহার সদ্য প্রমাণ রাণাপেয়েছেন প্রচুর।হারাবংশীর কেল্লা বুঁদিযোজন তিনেক দূর।

মন্ত্রী কহে যুক্তি করি—আজকে সারারাতিমাটি দিয়ে বুঁদির মতোনকল কেল্লা পাতি।রাজা এসে আপন করেদিবেন ভেঙে ধূলির পরে,

নইলে শুধু কথার তরেহবেন আত্মঘাতী।—মন্ত্রী দিল চিতোর মাঝেনকল কেল্লা পাতি।

কুম্ভ ছিল রাণার ভৃত্যহারাবংশী বীরহরিণ মেরে আসছে ফিরেস্কন্ধে ধনু তীর।খবর পেয়ে কহে—কেরেনকল বুঁদি কেল্লা মেরেহারাবংশী রাজপুতেরেকরবে নতশির।নকল বুঁদি রাখব আমিহারাবংশী বীর।

মাটির কেল্লা ভাঙতে আসেনরাণা মহারাজ।দূরে রহ—কহে কুম্ভ,গর্জে যেন বাজ।বুঁদির নামে করবে খেলাসইব না সে অবহেলা,—

নকল গড়ের মাটির ঢেলারাখব আমি আজ।কহে কুম্ভ—দূরে রহরাণা মহারাজ।

ভূমির-পরে জানু পাতি’তুলি ধনুঃ শরএকা কুম্ভ রক্ষা করেনকল বুঁদিগড়।রাণার সেনা ঘিরি তারেমুণ্ড কাটে তরবারে,খেলা গড়ের সিংহদ্বারেপড়ল ভূমিপর।রক্তে তাহার ধন্য হোলোনকল বুঁদিগড়।