গীতালি — ১০৪

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

কেমন করে তড়িৎ-আলোয়দেখতে পেলেম মনে’তোমার বিপুল সৃষ্টি চলেআমার এই জীবনে।সে সৃষ্টি যে কালের পটেলোকে লোকান্তরে রটে,একটু তারি আভাস কেবলদেখি ক্ষণে ক্ষণে॥

মনে ভাবি, কান্নাহাসিআদর-অবহেলাসবই যেন আমায় নিয়েআমারি ঢেউ-খেলা।সেই আমি তো বাহনমাত্র,যায় সে ভেঙে মাটির পাত্র,যা রেখে যায় তোমার সে ধনরয় তা তোমার সনে॥

তোমার বিশ্বে জড়িয়ে থাকেআমার চাওয়া পাওয়া।ভরিয়ে তোলে নিত্যকালেরফাল্গুনেরই হাওয়া।জীবন আমার দুঃখে সুখেদোলে ত্রিভুবনের বুকে,আমার দিবানিশির মালাজড়ায় শ্রীচরণে॥

আপন-মাঝে আপন জীবনদেখে যে মন কাঁদে।নিমেষগুলি শিকল হয়েআমায় তখন বাঁধে।মিটল দুঃখ, টুটল বন্ধ—আমার মাঝে, হে আনন্দ,তোমার প্রকাশ দেখে মোহঘুচল এ নয়নে॥