উৎসব

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

চিত্রা

মোর অঙ্গে অঙ্গে যেন আজি বসন্ত উদয়কত পত্র পুষ্পময়!যেন মধুপের মেলাগুঞ্জরিছে সারাবেলা,হেলাভরে করে খেলাঅলস মলয়।ছায়া আলো অশ্রু হাসিনৃত্য গীত বীণা বাঁশি,যেন মোর অঙ্গে আসিবসন্ত উদয়কত পত্র পুস্পময়!

তাই মনে হয় আমি আজি পরম সুন্দর,আমি অমৃত-নির্ঝর!সুখসিক্ত নেত্র মমশিশিরিত পুষ্পসম,ওষ্ঠে হাসি নিরুপমমাধুরী-মন্থর।মোর পুলকিত হিয়াসর্ব্বদেহে বিলসিয়াবক্ষে উঠে বিকশিয়াপরম সুন্দর,নব অমৃত নির্ঝর।

ওগো যে-তুমি আমার মাঝে নূতন নবীনসদা আছ নিশিদিন,তুমি কি বসেছ আজিনব বরবেশে সাজিকুন্তলে কুসুমরাজিঅঙ্কে লয়ে বীণ?ভরিয়া আরতি থালাজ্বালায়েছ দীপমালা

সাজায়েছ পুষ্প ডালানূতন নবীন,আজি বসন্তের দিন।

ওগো তুমি কি উতলাসম বেড়াইছ ফিরেমোর হৃদয়ের তীরে?তোমারি কি চারিপাশকাঁপে শত অভিলাষ,তোমারি কি পট্টবাসউড়িছে সমীরে?নব গান তব মুখেধ্বনিছে আমার বুকে,উচ্ছ্বাসিয়া সুখে দুখেহৃদয়ের তীরেতুমি বেড়াইছ ফিরে!

আজি তুমি কি দেখিছ এই শোভা রাশি রাশিওগো মনোবনবাসী!আমার নিঃশ্বাসবায়লাগিছে কি তব গায়?

বাসনার পুষ্প পা’য়পড়িছে কি আসি?উঠিছে কি কলতানমর্ম্মর গুঞ্জর গান,তুমি কি করিছ পানমোর সুধারাশিওগো মনোবনবাসী!

আজি এ উৎসব কলরব কেহ নাহি জানে,শুধু আছে তাহা প্রাণে।শুধু এ বক্ষের কাছেকি জানি কাহারা নাচে,সর্ব্বদেহ মাতিয়াছেশব্দহীন গানে।যৌবন-লাবণ্যধারাঅঙ্গে অঙ্গে পথহারা,এ আনন্দ তুমি ছাড়াকেহ নাহি জানে,—তুমি আছ মোর প্রাণে।