সান্ত্বনা
চিত্রা
কোথা হতে দুই চক্ষে ভরে’ নিয়ে এলে জলহে প্রিয় আমার!
হে ব্যথিত, হে অশান্ত, বল আজি গাব গানকোন্ সান্ত্বনার?হেথায় প্রান্তর পারেনগরীর এক ধারেসায়াহ্নের অন্ধকারেজ্বালি দীপখানিশূন্য গৃহে অন্য মনেএকাকিনী বাতায়নেবসে আছি পুষ্পাসনেবাসরের রাণী;—কোথা বক্ষে বিধি কাঁটা কিরিলে আপন নীড়েহে আমার পাখী!ওরে কিষ্ট, ওরে ক্লান্ত, কোথা তোর বাজে ব্যথা,কোথা তোরে রাখি?
চারিদিকে তমস্বিনী রজনী দিয়েছে টানিমায়ামন্ত্র-ঘের;দুয়ার রেখেছি রুধি, চেয়ে দেখ কিছু হেথানাহি বাহিরের।
এ যে দুজনের দেশ,নিখিলের সব শেষ,মিলনের রসাবেশঅনন্ত ভবন;শুধু এই এক ঘরেদুখানি হৃদয় ধরে,দুজনে সৃজন করেনুতন ভুবন।একটি প্রদীপ শুধু এ আঁধারে যতটুকুআলো করে রাখেসেই আমাদের বিশ্ব, তাহার বাহিরে আরচিনি না কাহাকে!
একখানি বীণা আছে, কভু বাজে মোর বুকেকভু তব কোরে,একটি রেখেছি মালা, তোমারে পায়ে দিলেতুমি দিবে মোরে।এই শয্যা রাজধানী,আধেক আঁচলখানি
বক্ষ হতে লয়ে টানিপাতিব শয়ন,একটি চুম্বন গড়িদোঁহে লব ভাগ করি,এ রাজত্বে, মরি মরি,এত আয়োজন!একটি গোলাপ ফুল রেখেছি বক্ষের মাঝে,তব ঘ্রাণ শেষেআমারে ফিরায়ে দিলে অধরে পরশি’ তাহাপরি লব কেশে!
আজ করেছিনু মনে তোমারে করিব রাজাএই রাজ্যপাটে,এ অমর বরমাল্য আপনি যতনে তবজড়াব ললাটে।মঙ্গল প্রদীপ ধরে’লইব বরণ করে’,পুষ্প-সিংহাসন পরেবসাব তোমায়,
তাই গাঁথিয়াছি হার,আনিয়াছি ফুলভার,দিয়েছি নূতন তারকনক বীণায়;আকাশে নক্ষত্রসভা নীরবে বসিয়া আছেশান্ত কৌতুহলে-আজি কি এ মালাখানি সিক্ত হবে, হে রাজ্ন,নয়নের জলে?
রুদ্ধকণ্ঠ, গীতহারা! কহিয়োনা কোনো কথা,কিছু শুধাবনা!নীরবে লইব প্রাণে তোমার হৃদয় হতেনীরব বেদনা!প্রদীপ নিবায়ে দিব,বক্ষে মাথা তুলি নিব,স্নিগ্ধ করে পরশিবসজল কপোল,—বেণীমুক্ত কেশজালস্পর্শিবে তাপিত ভাল
কোমল বক্ষের তালমৃদুমন্দ দোল!নিঃশ্বাস বীজনে মোর কাঁপিবে কুন্তল তব,মুদিবে নয়ন-অর্দ্ধরাতে শান্তবায়ে নিদ্রিত ললাটে দিবএকটি চুম্বন।