করুণা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

চৈতালি

অপরাহ্নে ধূলিচ্ছন্ন নগরীর পথেবিষম লোকের ভিড়; কর্মশালা হতেফিরে চলিয়াছে ঘরে পরিশ্রান্ত জনবাঁধমুক্ত তটিনীর স্রোতের মতন।ঊর্ধ্বশ্বাসে রথ-অশ্ব চলিয়াছে ধেয়েক্ষুধা আর সারথির কশাঘাত খেয়ে।হেনকালে দোকানির খেলামুগ্ধ ছেলেকাটা ঘুড়ি ধরিবারে চলে বাহু মেলে।অকস্মাৎ শকটের তলে গেল পড়ি,পাষাণকঠিন পথ উঠিল শিহরি।সহসা উঠিল শূন্যে বিলাপ কাহার,স্বর্গে যেন দয়াদেবী করে হাহাকার।ঊর্ধ্বপানে চেয়ে দেখি, স্খলিতবসনালুটায়ে লুটায়ে ভূমে কাঁদে বারাঙ্গনা।