পুণ্যের হিসাব

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

চৈতালি

সাধু যবে স্বর্গে গেল চিত্রগুপ্তে ডাকিকহিলেন, ‘আনাে মাের পুণ্যের হিসাব।’চিত্রগুপ্ত খাতাখানি সম্মুখেতে রাখিদেখিতে লাগিল তার মুখের কী ভাব।সাধু কহে চমকিয়া, ‘মহা ভুল এ কী!প্রথমের পাতাগুলো ভরিয়াছ আঁকে,শেষের পাতায় এ যে সব শূন্য দেখি।যতদিন ডুবে ছিনু সংসারের পাঁকেততদিন এত পুণ্য কোথা হতে আসে।’শুনি কথা চিত্রগুপ্ত মনে মনে হাসে।সাধু মহা রেগে বলে, ‘যৌবনের পাতেএত পুণ্য কেন লেখ দেবপূজা-খাতে!’চিত্রগুপ্ত হেসে বলে, ‘বড়ো শক্ত বুঝা।যারে বলে ভালােবাসা তারে বলে পূজা।’