পিছু-ডাকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

ছড়ার ছবি

যখন দিনের শেষেচেয়ে দেখি সমুখপানে সূর্য ডােবার দেশেমনের মধ্যে ভাবি—অস্তসাগর-তলায় গেছে নাবিঅনেক সূর্য-ডােবার সঙ্গে অনেক আনাগােনা,অনেক দেখাশােনা,অনেক কীর্তি, অনেক মূর্তি, অনেক দেবালয়,শক্তিমানের অনেক পরিচয়।তাদের হারিয়ে যাওয়ার ব্যথার টান লাগে না মনে,কিন্তু যখন চেয়ে দেখি সামনে সবুজ বনে

ছায়ায় চরছে গােরু,মাঝ দিয়ে তার পথ গিয়েছে সরু,ছেয়ে আছে শুক্‌নো বাঁশের পাতায়,হাট করতে চলে মেয়ে ঘাসের আঁঠি মাথায়,তখন মনে হঠাৎ এসে এই বেদনাই বাজে—ঠাঁই রবে না কোনােকালেই ঐ যা-কিছুর মাঝে।ঐ যা-কিছুর ছবির ছায়া দুলেছে কোন্‌কালেশিশুর-চিত্ত-নাচিয়ে-তােলা ছড়াগুলির তালে—তিরপূর্নির চরেবালি ঝুর্‌ঝুর্‌ করে,কোন্ মেয়ে সে চিকন-চিকন চুল দিচ্ছে ঝাড়ি,পরনে তার ঘুরে-পড়া ডুরে একটি শাড়ি।ঐ যা-কিছু ছবির আভাস দেখি সাঁঝের মুখেমর্তধরার পিছু-ডাকা দোলা লাগায় বুকে।