অভিমানিনী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

ছবি ও গান

ও আমার অভিমানী মেয়ে।ওরে কেউ কিছু বোলো না।ও আমার কাছে এসেছে,ও আমায় ভালবেসেছে,ওরে কেউ কিছু বোলো না।

এলোথেলো চুলগুলি ছড়িয়েওই দেখ সে দাঁড়িয়ে রয়েছে;—নিমেষ-হারা আঁখির পাতা দুটিচোখের জলে ভ’রে এসেছে।—গ্রীবাখানি ঈষৎ বাঁকানোদুটি হাতে মুঠি আছে চাপি,ছোট ছোট রাঙা রাঙা ঠোঁটফুলে ফুলে উঠিতেছে কাঁপি।সাধিলে ও কথা কবে না,ডাকিলে ও আসিবে না কাছে;ও—সবার পরে অভিমান ক’রেআপ্‌না নিয়ে দাঁড়িয়ে শুধু আছে।

কি হয়েছে কি হয়েছে বলেবাতাস এসে চুলগুলি দোলায়;—

রাঙা ওই কপোল খানিতেরবির হাসি হেসে চুম খায়।—কচি হাতে ফুল দুখানি ছিলরাগ করে ঐ ফেলে দিয়েছে,পায়ের কাছে প'ড়ে প'ড়ে তা'রামুখের পানে চেয়ে রয়েছে।

আয় বাছা, তুই কোলে ব'সে বল্কি কথা তোর বলিবার আছে,অভিমানে রাঙা মুখখানিআন্ দেখি তুই এ বুকের কাছে।ধীরে ধীরে আধ’ আধ’ বল্‌কেঁদে কেঁদে ভাঙা ভাঙা কথা,আমায় যদি না বলিবি তুইকে শুনিবে শিশু-প্রাণের ব্যথা।