দিদিমণি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

প্রহাসিনী

দিদিমণি আঁট করে দিলে মোর দিন,এক করে দিলে যেন ছিল যেটা তিন।প্রহরে প্রহরে সব নিয়মেতে বাঁধা,ডাক্তারি ফাঁদে এই জীবনটা আগাগোড়া ফাঁদা।সারি সারি ওষুধের শিশিখাড়া আছে তর্জনী তুলে দিবানিশি।যদি তারি কোনো ফাঁকে তবুসুস্থ লোকের চালে চলিতে সাহস করি কভুচোখে তবে পড়ে সেটা তোমার তখুনি,স্পর্ধা মানিয়া লয়ে চুপ করে শুনি যে বকুনি।গ্ল্যাক্‌সো খাওয়াও তুমি গুনে গুনে চামচেতে মেপে,বই খুলে বসি যদি দাও সেটা চেপে।বলো, ‘পড়া থাক-না!’দিনটাকে ঢেকে রাখে সেবা-গাঁথা ঢাকনা॥

স্নানে গেছ, সেই ফাঁকে খাতাটেনে নিয়ে লিখি এই যা’-তা’।মিথ্যার রসে মিশে সত্যটা হলে উপাদেয়,সাহিত্যে সেটা নয় হেয়।

গদ্যে যাহারে বলে মিথ্যেসেটাই যে ছন্দের নৃত্যেসত্যেরও বেশি পায় দাম-এ কথাটা লিখে রাখিলাম॥