নৃত্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

বনবাণী — নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা

নৃত্যের তালে তালে, নটরাজ,ঘুচাও সকল বন্ধ হে।সুপ্তি ভাঙাও, চিত্তে জাগাওমুক্ত সুরের ছন্দ হে।তোমার চরণপবনপরশেসরস্বতীর মানসসরসেযুগে যুগে কালে কালেসুরে সুরে তালে তালেঢেউ তুলে দাও, মাতিয়ে জাগাওঅমলকমলগন্ধ হে।‘নমো নমো নমো-তোমার নৃত্য অমিত বিত্তভরুক চিত্ত মম।’

নৃত্যে তোমার মুক্তির রূপ,নৃত্যে তোমার মায়া।বিশ্বতনুতে অণুতে অণুতেকাঁপে নৃত্যের ছায়া।তোমার বিশ্ব নাচের দোলায়বাঁধন পরায় বাঁধন খোলায়যুগে যুগে কালে কালেসুরে সুরে তালে তালে—

অন্ত কে তার সন্ধান পায়ভাবিতে লাগায় ধন্দ হে।

‘নমো নমো নমো-তোমার নৃত্য অমিত বিত্তভরুক চিত্ত মম।’

নৃত্যের বশে সুন্দর হলবিদ্রোহী পরমাণু,পদযুগ ঘিরে জ্যোতিমঞ্জীরেবাজিল চন্দ্রভানু।তব নৃত্যের প্রাণবেদনায়বিবশ বিশ্ব জাগে চেতনায়,যুগে যুগে কালে কালেসুরে সুরে তালে তালেসুখে দুখে হয় তরঙ্গময়তোমার পরমানন্দ হে।

‘নমো নমো নমো-তোমার নৃত্য অমিত বিত্তভরুক চিত্ত মম।’

মোর সংসারে তাণ্ডব তবকম্পিত জটাজালে।লোকে লোকে ঘুরে এসেছি তোমারনাচের ঘুর্ণিতালে।

ওগো সন্ন্যাসী, ওগো সুন্দর,ওগো শংকর, হে ভয়ংকর,যুগে যুগে কালে কালেসুরে সুরে তালে তালেজীবনমরণ-নাচের ডমরুবাজাও জলদমন্দ্র হে।

‘নমো নমো নমো-তোমার নৃত্য অমিত বিত্তভরুক চিত্ত মম।’