শরতের প্রবেশ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

বনবাণী — নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা

নির্মল কান্ত, নমো হে নমো।স্নিগ্ধ সুশান্ত, নমো হে নমো।বন-অঙ্গনময় রবিকররেখালেপিল আলিম্পনলিপিলেখা,আঁকিব তাহে প্রণতি মম।নমো হে নমো।

শরৎ ডাকে ঘর-ছাড়ানো ডাকাকাজ-ভোলানো সুরে-চপল করে হাঁসের দুটি পাখা,ওড়ায় তারে দূরে।শিউলিকুঁড়ি যেমনি ফোটে শাখেঅমনি তারে হঠাৎ ফিরে ডাকে,পথের বাণী পাগল করে তাকে,ধুলায় পড়ে ঝুরে।শরৎ ডাকে ঘর-ছাড়ানো ডাকাকাজ-খোওয়ানো সুরে।

শরৎ আজি বাজায় এ কী ছলেপথ-ভোলানো বাঁশি।অলস মেঘ যায়-যে দলে দলেগগনতলে ভাসি।

নদীর ধারা অধীর হয়ে চলে,কী নেশা আজি লাগালো তার জলে,ধানের বনে বাতাস কী যে বলে,বেড়ায় ঘুরে ঘুরে।শরৎ ডাকে ঘর-ছাড়ানো ডাকাকাজ-খোওয়ানো সুরে।

শরৎ আজি শুভ্র আলোকেতেমন্ত্র দিল পড়ি,ভুবন তাই শুনিল কান পেতেবাজে ছুটির ঘড়ি।কাশের বনে হাসির লহরীতেবাজিল ছুটি মর্মরিত গীতে—ছুটির ধ্বনি আনিল মোর চিতেপথিকবন্ধুরে।শরৎ ডাকে ঘর-ছাড়ানো ডাকাকাজ-খোওয়ানো সুরে।