পরিশিষ্ট
মানুষের ধর্ম্ম
“জাগিয়া দেখিনু আমি আঁধারে র’য়েছি আঁধা,আপনারি মাঝে আমি আপনি র’য়েছি বাঁধা।র’য়েছি মগন হ’য়ে আপনারি কলস্বরে,ফিরে আসে প্রতিধ্বনি নিজেরি শ্রবণ পরে!”
“গভীর—গভীর গুহা, গভীর আঁধার ঘোর,গভীর ঘুমন্ত প্রাণ একেলা গাহিছে গান,মিশিছে স্বপন-গীতি বিজন হৃদয়ে মোর।”
“আজি এ প্রভাতে রবির করকেমনে পশিল প্রাণের পর,কেমনে পশিল গুহার আঁধারেপ্রভাত পাখীর গান!না জানি কেন রে এতদিন পরেজাগিয়া উঠিল প্রাণ!জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,ওরে উথলি উঠেছে বারি,ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগরুধিয়া রাখতে নারি।”
“কি জানি কি হ’ল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ,দূর হ’তে শুনি যেন মহাসাগরের গান।সেই সাগরের পানে হৃদয় ছুটিতে চায়,তারি পদপ্রান্তে গিয়ে জীবন টুটিতে চায়।”
“হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি’!জগত আসি সেথা করিছে কোলাকুলি।ধরায় আছে যত মানুষ শত শত,আসিছে প্রাণে মোর হাসিছে গলাগলি।”
“কাল গান ফুরাইবে, তা ব’লে গাবে না কেন,আজ যবে হয়েচে প্রভাত।”
“কিসের হরষ-কোলাহল,শুধাই তোদের, তোরা বল!আনন্দ-মাঝারে সব উঠিতেছে ভেসে ভেসে,আনন্দে হ’তেছে কভু লীন,চাহিয়া ধরণী পানে নব আনন্দের গানেমনে পড়ে আর একদিন।”
“আজ আমি কথা কহিব না।আর আমি গান গাহিব না।হের আজি ভোর-বেলা এসেছে রে মেলা লোক,ঘিরে আছে চারিদিকেচেয়ে আছে অনিমিখে,হেরে মোর হাসি-মুখ ভুলে গেছে দুখ-শোক।আজ আমি গান গাহিব না।”
“ওগো অন্তরতমমিটেছে কি তব সকল তিয়াষআসি অন্তরে মম।”