রোগশয্যায় — ১৫

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

অসুস্থ শরীরখানাকোন্ অবরুদ্ধ ভাষা করিছে বহন,বাণীর ক্ষীণতামুহ্যমান আলােকেতে রচিতেছে অম্পষ্টের কারা।নির্ঝর যখন ছোটে পরিপূর্ণ বেগেবহুদূর দুর্গমেরে করিবারে জয়গর্জন তাহারঅস্বীকার করি’ চলে গুহার সংকীর্ণ আত্মীয়তা,ঘােষণা করিতে থাকে নিখিল বিশ্বের অধিকার।বলহারা ধারা তার মৃদু হয় যবেবৈশাখের শীর্ণ শুষ্কতায়হারায় আপন মন্দ্রধ্বনি,কৃশতম হয়ে আসে আপনার কাছেআপনার পরিচয়।খণ্ড খণ্ড কুণ্ড মাঝেক্লান্ত তার গতিস্রোত লীন হয়ে থাকে।তেমনি আমার রুগ্ন বাণীস্পর্ধা হারায়েছে তারশক্তি নাই জীবনের সঞ্চিত গ্লানিরেধিক্কার দিবার।আত্মগত ক্লিষ্ট জীবনের কুহেলিকাতাহার বিশ্বের দৃষ্টি করিছে হরণ।

হে প্রভাতসূর্যআপনার শুভ্রতম রূপতোমার জ্যোতির কেন্দ্রে হেরিব উজ্জল,প্রভাতধ্যানেরে মোর সেই শক্তি দিয়েকরো আলোকিত,তুর্বল প্রাণের দৈন্যহিরন্ময় ঐশ্বর্ষে তোমারদূর করি' দাওপরাভূত রজনীর অপমানসহ॥