রোগশয্যায় — ২৪

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

প্রত্যুষে দেখিনু আজ নির্মল আলোকেনিখিলের শান্তি-অভিষেক,তরুগুলি নম্রশিরে ধরণীর নমস্কার করিল প্রচার।যে শান্তি বিশ্বের মর্মে ধ্রুব প্রতিষ্ঠিতরক্ষা করিয়াছে তা’রেযুগ যুগান্তের যত আঘাতে সংঘাতে।বিক্ষুব্ধ এ মর্ত্যভূমেনিজের জানায় আবির্ভাবদিবসের আরম্ভে ও শেষে।তারি পত্র পেয়েছ তো কবি মাঙ্গলিক।সে যদি অমান্য করে বিদ্রুপের বাহক সাজিয়াবিকৃতির সভাসদরূপেচিরনৈরাশ্যের দূত,ভাঙা যন্ত্রে বেসুর ঝংকারেব্যঙ্গ করে এ বিশ্বের শাশ্বত সত্যেরেতবে তার কোন্ আবশ্যক।শস্যক্ষেত্রে কাঁটাগাছ এসেঅপমান করে কেন মানুষের অন্নের ক্ষুধারে।রুগ্ন যদি রোগেরে চরম সত্য বলে,তাহা নিয়ে স্পর্ধা করা লজ্জা ব’লে জানিতার চেয়ে বিনা বাক্যে আত্মহত্যা ভালো।

মানুষের কবিত্বইহবে শেষে কলঙ্কভাজনঅসংস্কৃত যদৃচ্ছের পথে চলি’।মুখশ্রীর করিবে কি প্রতিবাদমুখোষের নির্লজ্জ নকলে॥