রোগশয্যায় — ৫

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

এই মহাবিশ্বতলেযন্ত্রণার ঘূর্ণযন্ত্র চলে,চূর্ণ হোতে থাকে গ্রহতারা।উৎক্ষিপ্ত স্ফুলিঙ্গ যতদিক্‌-বিদিকে অস্তিত্বের বেদনারেপ্রলয়দুঃখের রেণুজালেব্যাপ্ত করিবারে ছোটে প্রচণ্ড আবেগে।পীড়নের যন্ত্রশালেচেতনার উদ্দীপ্ত প্রাঙ্গণেকোথা শেল শূল যত হতেছে ঝংকৃত,কোথা ক্ষতরক্ত উৎসারিছে।মানুষের ক্ষুদ্র দেহ,যন্ত্রণার শক্তি তার কী দুঃসীম।সৃষ্টি ও প্রলয়-সভাতলে—তার বহ্নিরসপাত্রকী লাগিয়া যোগ দিল বিশ্বের ভৈরবীচক্রেবিধাতার প্রচণ্ড মত্ততা—কেনএ দেহের মৃৎভাণ্ড ভরিয়ারক্তবর্ণ প্রলাপের অশ্রুস্রোতে করে বিপ্লাবিত।প্রতিক্ষণে অন্তহীন মূল্য দিল তারেমানবের দুর্জয় চেতনা,দেহ-দুঃখ-হোমানলেযে অর্ঘ্যের দিল সে আহুতি—জ্যোতিষ্কের তপস্যায়তার কি তুলনা কোথা আছে।এমন অপরাজিত বীর্যের সম্পদ,এমন নির্ভীক সহিষ্ণুতা,

এমন উপেক্ষা মরণেরে,হেন জয়যাত্রা—বহ্নিশয্যা মাড়াইয়া দলে দলেদুঃখের সীমান্ত খুঁজিবারেনামহীন জ্বালাময় কী তীর্থের লাগিসাথে সাথে পথে পথেএমন সেবার উৎস আগ্নেয় গহ্বর ভেদ করি’অফুরান প্রেমের পাথেয়॥