পুতুল ভাঙা
শিশু ভোলানাথ
‘সাত আট্টে সাতাশ’ আমিবলেছিলেম ব’লেগুরুমশায় আমার ’পরেউঠল রাগে জ্বলে।মা গো, তুমি পাঁচ পয়সায়এবার রথের দিনেসেই-যে রঙিন পুতুলখানিআপনি দিলে কিনেখাতার নীচে ছিল ঢাকা;দেখালে এক ছেলে,গুরুমশায় রেগে মেগেভেঙে দিলেন ফেলে।বললেন, ‘তোর দিনরাত্তিরকেবল যত খেলা।একটুও তোর মন বসে নাপড়াশুনোর বেলা।’
মা গো, আমি জানাই কাকে?ওঁর কি গুরু আছে?আমি যদি নালিশ করিএক্খনি তাঁর কাছে?কোনোরকম খেলার পুতুলনেই কি, মা, ওঁর ঘরে?সত্যি কি ওঁর একটুও মননেই পুতুলের ’পরে?সকাল-সাঁজে তাদের নিয়েকরতে গিয়ে খেলাকোনো পড়ায় করেন নি কিকোনোরকম হেলা?ওঁর যদি সেই পুতুল নিয়েভাঙেন কেহ রাগে,বল্ দেখি মা, ওঁর মনে তাকেমনতরো লাগে।