বুড়ি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

শিশু ভোলানাথ

এক যে ছিল চাঁদের কোণায়চরকা-কাটা বুড়িপুরাণে তার বয়স লেখেসাতশো হাজার কুড়ি।সাদা সুতোয় জাল বোনে সে,হয় না বুনোন সারা—পণ ছিল তার ধরবে জালেলক্ষ কোটি তারা।

হেনকালে কখন আঁখিপড়ল ঘুমে ঢুলে,স্বপনে তার বয়সখানাবেবাক গেল ভুলে।ঘুমের পথে পথ হারিয়েমায়ের কোলে এসেপূর্ণ চাঁদের হাসিখানিছড়িয়ে দিল হেসে।

সন্ধেবেলায় আকাশ চেয়েকী পড়ে তার মনে!চাঁদকে করে ডাকাডাকি,চাঁদ হাসে আর শোনে।যে পথ দিয়ে এসেছিলস্বপন-সাগর-তীরেদু হাত তুলে সে পথ দিয়েচায় সে যেতে ফিরে।

হেনকালে মায়ের মুখেযেমনি আঁখি তোলেচাঁদে ফেরার পথখানি যেতক্‌খনি সে ভোলে।কেউ জানে না কোথায় বাসা,এল কী পথ বেয়ে—কেউ জানে না এই মেয়ে সেইআদ্যিকালের মেয়ে।

বয়সখানার খ্যাতি তবুরইল জগৎ জুড়ি—পাড়ার লোকে যে দেখে সেইডাকে ‘বুড়ি বুড়ি’।

সব চেয়ে যে পুরানো সেকোন্ মন্ত্রের বলেসব চেয়ে আজ নতুন হয়েনামল ধরাতলে!

১৫ ভাদ্র ১৩২৮