বসুন্ধরা
সোনার তরী
আমারে ফিরায়ে লহ, অয়ি বসুন্ধরে,কোলের সন্তানে তব কোলের ভিতরে,বিপুল অঞ্চলতলে! ওগো মা মৃণ্ময়ি,তোমার মৃত্তিকা মাঝে ব্যাপ্ত হয়ে রই;দিগ্বিদিকে আপনারে দিই বিস্তারিয়াবসন্তের আনন্দের মত; বিদারিয়াএ বক্ষ-পঞ্জর, টুটিয়া পাষাণ-বন্ধসঙ্কীর্ণ প্রাচীর, আপনার নিরানন্দঅন্ধ কারাগার, হিল্লোলিয়া, মর্ম্মরিয়া,কম্পিয়া, স্খলিয়া, বিকীরিয়া, বিচ্ছুরিয়াশিহরিয়া সচকিয়া আলোকে পুলকেপ্রবাহিয়া চলে যাই সমস্ত ভূলোকেপ্রান্ত হতে প্রান্তভাগে; উত্তরে দক্ষিণে,পূরবে পশ্চিমে; শৈবালে শাদ্বলে তৃণেশাখায় বল্কলে পত্রে উঠি সরসিয়ানিগূঢ় জীবন-রসে; যাই পরশিয়াস্বর্ণ-শীর্ষে আনমিত শস্যক্ষেত্রতলঅঙ্গুলির আন্দোলনে; নব পুষ্পদলকরি পূর্ণ সঙ্গোপনে সুবর্ণ-লেখায়সুধগন্ধে মধুবিন্দু ভারে; নীলিমায়পরিব্যাপ্ত করি দিয়া মহাসিন্ধু নীরতীরে তীরে করি নৃত্য স্তব্ধ ধরণীর,
অনন্ত কল্লোল গীতে; উল্লসিত রঙ্গেভাষা প্রসারিয়া দিই তরঙ্গে তরঙ্গেদিক্-দিগন্তরে; শুভ্র উত্তরীয় প্রায়শৈলশৃঙ্গে বিছাইয়া দিই আপনায়নিলয় নীহারের উত্তুঙ্গ নির্জ্জনে,নিঃশব্দ নিভৃতে।যে ইচ্ছা গোপন মনেউৎস সম উঠিতেছে অজ্ঞাতে আমারবহুকাল ধরে-হৃদয়ের চারিধারক্রমে পরিপূর্ণ করি বাহিরিতে চাহেউদ্বেল উদ্দাম মুক্ত উদার প্রবাহেসিঞ্চিতে তোমায়—ব্যথিত সে বাসনারেবন্ধমুক্ত করি দিয়া শতলক্ষ ধারেদেশে দেশে দিকে দিকে পাঠাব কেমনেঅন্তর ভেদিয়া। বসি’ শুধু গৃহকোণেলুব্ধ চিত্তে করিতেছি সদা অধ্যয়নদেশে দেশান্তরে কারা করেছে ভ্রমণকৌতুহলবশে; আমি তাহাদের সনেকরিতেছি তোমারে বেষ্টন মনে মনেকল্পনার জালে।—
সুদুর্গম দূর দেশ,পথশূন্য তরুশূন্য প্রান্তর অশেষ,
মহা পিপাসার রঙ্গভূমি; রৌদ্রালোকেজ্বলন্ত বালুকা রাশি সূচি বিঁধে চোখে;দিগন্তবিস্তৃত যেন ধুলিশয্যা পরেজরাতুরা বসুন্ধরা লুটাইছে পড়ে’তপ্তদেহ, উষ্ণশ্বাস বহ্নিজ্বালাময়,শুষ্ককণ্ঠ, সঙ্গহীন, নিঃশব্দ, নির্দ্দয়!কতদিন গৃহপ্রান্তে বসি বাতায়নেদূর দূরান্তের দৃশ্য আঁকিয়াছি মনেচাহিয়া সম্মুখে;— চারিদিকে শৈলমালা,মধ্যে নীল সরোবর নিস্তব্ধ নিরালাস্ফটিক নির্ম্মল স্বচ্ছ; খণ্ড মেঘগণমাতৃস্তনপানরত শিশুর মতনপড়ে আছে শিখর আঁকড়ি’; হিম-রেখানীলগিরিশ্রেণীপরে দূরে যায় দেখাদৃষ্টি রোধ করি’; যেন নিশ্চল নিষেধউঠিয়াছে সারি সারি স্বর্গ করি ভেদযোগমগ্ন ধূর্জটীর তপোবন-দ্বার!মনে মনে ভ্রমিয়াছি দূর সিন্ধুপারেমহামেরু দেশে-যেখানে লয়েছে ধরাঅনন্তকুমারীব্রত, হিমবস্ত্র পরা,নিঃসঙ্গ, নিস্পৃহ, সর্ব্ব আভরণহীন;যেথা দীর্ঘ রাত্রি-শেষে ফিরে আসে দিনশব্দ সঙ্গীতবিহীন; রাত্রি আসে,ঘুমাবার কেহ নাই,অনন্ত আকাশে
অনিমেষ জেগে থাকে নিদ্রাতন্দ্রাহতশূন্যশয্যা মৃতপুত্র জননীর মত!নুতন দেশের নাম যত পাঠ করি,বিচিত্র বর্ণনা শুনি, চিত্ত অগ্রসরি’সমস্ত স্পর্শিতে চাহে; সমুদ্রের তটেছোট ছোট নীলবর্ণ পর্ব্বতসঙ্কটেএকখানি গ্রাম, তীরে শুকাইছে জাল,জলে ভাসিতেছে তরী, উড়িতেছে পাল,জেলে ধরিতেছে মাছ, গিরিমধ্যপথেসঙ্কীর্ণ নদীটি চলি আসে, কোন মতেআঁকিয়া বাঁকিয়া; ইচ্ছা করে সে নিভৃতগিরিক্রোড়ে সুখাসীন উর্ম্মিমুখরিতলোকনীড়খানি, হৃদয়ে বেষ্টিয়া ধরিবাহুপাশে। ইচ্ছা করে, আপনার করিযেখানে যা-কিছু আছে; নদীস্রোতোনীরেআপনারে গলাইয়া দুই তীরে তীরেনব নব লোকালয়ে করে যাই দানপিপাসার জল, গেয়ে যাই কলগানদিবসে নিশীথে; পৃথিবীর মাঝখানেউদয়-সমুদ্র হতে অস্ত-সিন্ধুপানেপ্রসারিয়া আপনারে তুঙ্গগিরিরাজিআপনার সুদুর্গম রহস্যে, বিরাজি;কঠিন পাষাণ ক্রোড়ে তীব্র হিম বায়েমানুষ করিয়া-তুলি লুকায়ে লুকায়ে
নব নব জাতি। ইচ্ছা করে মনে মনেস্বজাতি হইয়া থাকি সর্ব্বলোক সনেদেশে দেশান্তরে; উষ্ট্রদুগ্ধ করি’ পানমরুতে মানুষ হই আরব-সন্তানদুর্দ্দম স্বাধীন; তিব্বতের গিরিতটেনির্লিপ্ত প্রস্তরপুরী মাঝে, বৌদ্ধমঠেকরি বিচরণ! দ্রাক্ষাপায়ী পারসীকগোলাপকাননবাসী, তাতার নির্ভীকঅশ্বারূঢ়, শিষ্টাচারী সহাস্য জাপান,প্রবীণ প্রাচীন চীন নিশি দিনমানকর্ম্ম অনুরত,সকলের ঘরে ঘরেজন্মলাভ করে লই হেন ইচ্ছা করে।অরুগ্ন বলিষ্ঠ হিংস্র নগ্ন বর্ব্বরতা-নাহি কোন ধর্ম্মাধর্ম্ম, নাহি কোন প্রথা,নাহি কোন বাধাবন্ধ,—নাহি চিন্তাজ্বর,নাহি কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব, নাহি ঘর পর,উন্মুক্ত জীবন-স্রোত বহে দিন রাতসম্মুখে আঘাত করি’ সহিয়া আঘাতঅকাতরে; পরিতাপজর্জ্জর পরাণেবৃথা ক্ষোভে নাহি চায় অতীতের পানে,ভবিষ্যৎ নাহি হেরে মিথ্যা দুরাশায়-বর্তমান তরঙ্গের চুড়ায় চুড়ায়নৃত্য করে চলে ধায় আবেগে উল্লাসি’,—উচ্ছৃঙ্খল সে জীবন সেও ভালবাসি-
কত বার ইচ্ছা করে সেই প্রাণঝড়েছুটিয়া চলিয়া যাই পূর্ণপালভরেলঘু তরী সম!
হিংস্র ব্যাঘ্র অটবীর-আপন প্রচণ্ড বলে প্রকাণ্ড শরীরবহিতেছে অবহেলে;—দেহ দীপ্তোজ্জলঅরণ্য মেঘের তলে প্রচ্ছন্ন-অনলবজ্রের মতন-রুদ্র মেঘমন্দ্র স্বরেপড়ে আসি অতর্কিত শীকারের পরেবিদ্যুতের বেগে, অনায়াস সে মহিমা—হিংসাতীব্র সে আনন্দ-সে দৃপ্ত গরিমা-ইচ্ছা করে একবার লভি তার স্বাদ;—ইচ্ছা করে বার বার মিটাইতে সাধপান করি’ বিশ্বের সকল পাত্র হতেআনন্দমদিরা ধারা নব নব স্রোতে।
হে সুন্দরী বসুন্ধরে, তোমা পানে চেয়েকত বার প্রাণ মোর উঠিয়াছে গেয়েপ্রকাও উল্লাসভরে; ইচ্ছা করিয়াছেসবলে আঁকড়ি ধরি এ বক্ষের কাছেসমুদ্রমেখলাপরা তব কটিদেশ;প্রভাত রৌদ্রের মত অনন্ত অশেষ
ব্যাপ্ত হয়ে দিকে দিকে, অরণ্যে ভূধরেপ্রত্যেক কম্পায়মান পল্লবের পরেকরি নৃত্য সারা বেলা, করিয়া চুম্বনপ্রত্যেক কুসুম কলি, করি’ আলিঙ্গনসঘন কোমল শ্যাম তৃণক্ষেত্র গুলি,প্রত্যেক তরঙ্গ পরে সারাদিন দুলি’আনন্দ দোলায়! রজনীতে চুপে চুপেনিঃশব্দ চরণে, বিশ্বব্যাপী নিদ্রারূপেতোমার সমস্ত পশু পক্ষীর নয়নেঅঙ্গুলি বুলায়ে দিই, শয়নে শয়নেনীড়ে নীড়ে গৃহে গৃহে গুহায় গুহায়করিয়া প্রবেশ, বৃহৎ অঞ্চল প্রায়আপনারে বিস্তারিয়া ঢাকি বিশ্বভূমিসুস্নিগ্ধ আঁধারে!
আমার পৃথিবী তুমিবহু বরষের; তোমার মৃত্তিকা সনেআমারে মিশায়ে লয়ে অনন্ত গগনেঅশ্রান্ত চরণে, করিয়াছ প্রদক্ষিণসবিতৃমণ্ডল, অসংখ্য রজনী দিনযুগ যুগান্তর ধরি’,আমার মাঝারেউঠিয়াছে তৃণ তব, পুষ্প ভারে ভারেফুটিয়াছে, বর্ষণ করেছে তরুরাজিপত্রফুলফল গন্ধরেণু; তাই আজি
কোন দিন আনমনে বসিয়া একাকীপদ্মাতীরে, সম্মুখে মেলিয়া মুগ্ধ আঁখিসর্ব্ব অঙ্গে সর্ব্ব মনে অনুভব করিতোমার মৃত্তিকা মাঝে কেমনে শিহরি’উঠিতেছে তৃণাঙ্কুর; তোমার অন্তরেকি জীবন-রসধারা অহর্নিশি ধরে’করিতেছে সঞ্চরণ; কুসুমমুকুলকি অন্ধ আনন্দভরে ফুটিয়া আকুলসুন্দর বৃন্তের মুখে; নব রৌদ্রালোকেতরুলতাতৃণগুল্ম কি গূঢ় পুলকেকি মূঢ় প্রমোদ-রসে উঠে’ হরষিয়া—মাতৃস্তনপানশান্ত পরিতৃপ্ত হিয়াসুখস্বপ্নহাস্যমুখ শিশুর মতন!তাই আজি কোন দিন,—শরৎ-কিরণপড়ে যবে পক্কশীর্ষ স্বর্ণক্ষেত্র পরে,নারিকেলদলগুলি কাঁপে বায়ুভরেআলোকে ঝিকিয়া, জাগে মহা ব্যাকুলতা,মনে পড়ে বুঝি সেই দিবসের কথামন যবে ছিল মোর সর্ব্বব্যাপী হয়েজলে স্থলে, অরণ্যের পল্লব নিলয়ে,আকাশের নীলিমায়! ডাকে যেন মোরেঅব্যক্ত আহ্বান রবে শতবার করে’সমস্ত ভুবন; সে বিচিত্র সে বৃহৎখেলাঘর হতে, মিশ্রিত মর্ম্মরবৎ
শুনিবারে পাই যেন চিরদিনকারসঙ্গীদের লক্ষবিধ আনন্দ খেলারপরিচিত রব! সেথায় ফিরায়ে লহমোরে আরবার; দূর কর সে বিরহযে বিরহ থেকে থেকে জেগে ওঠে মনেহেরি যবে সম্মুখেতে সন্ধ্যার কিরণেবিশাল প্রান্তর, যবে ফিরে গাভীগুলিদূর গোষ্ঠে—মাঠপথে উড়াইয়া ধূলিতরু-ঘেরা গ্রাম হতে উঠে ধূম্র-লেখাসন্ধ্যাকাশে; যবে চন্দ্র দূরে দেয় দেখাশ্রান্ত পথিকের মত অতি ধীরে ধীরেনদীপ্রান্তে জনশূন্য বালুকার তীরে;মনে হয় আপনারে একাকী প্রবাসীনির্ব্বাসিত; বাহু বাড়াইয়া ধেয়ে আসিসমস্ত বাহিরখানি লইতে অন্তরে,—এ আকাশ, এ ধরণী, এই নদী পরেশুভ্র শান্ত সুপ্ত জ্যোৎস্নারাশি! কিছু নাহিপারি পরশিতে, শুধু শূন্যে থাকি চাহিবিষাদ-ব্যাকুল! আমারে ফিরায়ে লহসেই সর্ব্বমাঝে, যেথা হতে অহরহঅঙ্কুরিছে মুকুলিছে মুঞ্জরিছে প্রাণশতেক সহস্ররূপে,—গুঞ্জরিছে গানশতলক্ষসুরে, উচ্ছ্বসি উঠিছে নৃত্যঅসংখ্য ভঙ্গীতে, প্রবাহি যেতেছে চিত্ত
ভাবস্রোতে, ছিদ্রে ছিদ্রে বাজিতেছে বেণু;—দাঁড়ায়ে রয়েছ তুমি শ্যাম কল্পধেনু,তোমারে সহস্র দিকে করিছে দোহনতরুলতা পশুপক্ষী কত অগণনতৃষিত পরাণী যত, আনন্দের রসকত রূপে হতেছে বর্ষণ, দিক্ দশধ্বনিছে কল্লোল গীতে। নিখিলের সেইবিচিত্র আনন্দ যত এক মুহূর্ত্তেইএকত্রে করিব আস্বাদন, এক হয়েসকলের সনে! আমার আনন্দ লয়েহবে না কি শ্যারতর অরণ্য তোমার,প্রভাত-আলোক মাঝে হবে না সঞ্চারনবীন কিরণকম্প? মোর মুগ্ধ ভাবেআকাশ ধরণীতল আঁকা হয়ে যাবেহৃদয়ের রঙে-যা দেখে কবির মনেজাগিবে কবিতা,—প্রেমিকের দু’নয়নেলাগিবে ভাবের ঘোর, বিহঙ্গের মুখেসহসা আসিবে গান! সহস্রের সুখেরঞ্জিত হইয়া আছে সর্ব্বাঙ্গ তোমারহে বসুধে, জীবস্রোত কত বারম্বারতোমারে মণ্ডিত করি আপন জীবনেগিয়েছে ফিরেছে, তোমার মৃত্তিকাসনেমিশায়েছে অন্তরর প্রেম, গেছে লিখে’কত লেখা, বিছায়েছ কত দিকে দিকে
ব্যাকুল প্রাণের আলিঙ্গন, তারি সনেআমার সমস্ত প্রেম মিশায়ে যতনেতোমার অঞ্চল খানি দিব রাঙাইয়াসজীব বরণে; আমার সকল দিয়াসাজাব তোমারে! নদীজলে মোর গানপাবে না কি শুনিবারে কোন মুগ্ধ কাননদীকূল হতে? উষালোকে মোর হাসিপাবে না কি দেখিবারে কোন মর্ত্ত্যবাসীনিদ্রা হতে উঠি? আজ শতবর্ষ পরেএ সুন্দর অরণ্যের পল্লবের স্তরেকাঁপিবে না আমার পরাণ? ঘরে ঘরেকত শত নরনারী চিরকাল ধরে’পাতিবে সংসারখেলা, তাহাদের প্রেমেকিছু কি রব না আমি? আসিব না নেমেতাদের মুখের পরে হাসির মতন,তাদের সর্ব্বাঙ্গ মাঝে সরস যৌবন,তাদের বসন্ত দিনে অকস্মাৎ সুখ,তাদের মনের কোণে নবীন উন্মুখপ্রেমের অঙ্কুর রূপে? ছেড়ে দিবে তুমিআমারে কি একেবারে ওগো মাতৃভূমি,যুগযুগান্তের মহা মৃত্তিকা বন্ধনসহসা কি ছিঁড়ে যাবে? করিব গমনছাড়ি লক্ষ বরষের স্নিগ্ধ ক্রোড় খানি?চতুর্দ্দিক হতে মোরে লবে না কি টানি
এই সব তরু লতা গিরি নদী বন,এই চিরদিবসের সুনীল গগন,এ জীবনপরিপূর্ণ উদার সমীর,জাগরণপূর্ণ আলো, সমস্ত প্রাণীরঅন্তরে অন্তরে গাঁথা জীবন-সমাজ?ফিরিব তোমারে ঘিরি, করিব বিরাজতোমার আত্মীয় মাঝে; কীট পশু পাখীতরু গুল্ম লতারূপে বারম্বার ডাকিআমারে লইবে তব প্রাণতপ্ত বুকে;যুগে যুগে জন্মে জন্মে স্তন দিয়ে মুখেমিটাইবে জীবনের শত লক্ষ ক্ষুধা,শত লক্ষ আনন্দের স্তন্যরসসুধানিঃশেষে নিবিড় স্নেহে করাইয়া পান।তার পরে ধরিত্রীর যুবক সন্তানবাহিরিব জগতের মহাদেশ মাঝেঅতি দুর দুরান্তরে জ্যোতিষ্কসমাজেসুদুর্গম পথে!—এখনো মিটেনি আশা,এখনো তোমার স্তন-অমৃত-পিপাসামুখেতে রয়েছে লাগি, তোমার আননএখনো জাগায় চোখে সুন্দর স্বপন,এখন কিছুই তব করি নাই শেষ,সকলি রহস্যপূর্ণ, নেত্র অনিমেষবিস্ময়ের শেষতল খুঁজে নাহি পায়,এখনো তোমার বুকে আছি শিশু প্রায়
মুখপানে চেয়ে। জননী লহগো মোরেসঘন বন্ধন তব বাহুযুগে ধরে’আমারে করিয়া লহ তোমার বুকের,তোমার বিপুল প্রাণ বিচিত্র মুখেরউৎস উঠিতেছে যেথা, সে গোপন পুরেআমারে লইয়া যাও—রাখিয়ো না দুরে!