একঘরে

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (1863–1913)

হায় হায়বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়—ছেড়ে দিলেন মুরগী গরু জাতের ঠেলায়;মুড়িইয়ে মাথা, ঢেলে ঘোল,ধর্ল্লেন আবার মাছের ঝোল;কুম্‌ড়োসিদ্ধ, বেগুণপোড়া, আলুভাতে তায়,;—বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়।

হায় হায়বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়—লেখেন ব’সে তপ্তাপোষে, ঠেসে তাকিয়ায়;খেয়ে তাওয়ায় তামাক মিঠে,ভুলে গেলেন সিগারেটে!মাথা হেঁটে, হাতে ঘেঁটে, দই চেটে খায়;বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়।

হায় হায়বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়—দলে মিশি’ ভণ্ডঋষি হতে যদি চায়,—পেটের মধ্যে থেকে থেকেমুরগীগুলো উঠে ডেকে;গরুগুলো হাম্বা করে—একি হলো দায়,—বিলেত থেকে ফিরে এসে—হরিদাস রায়।

হায় হায়বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়—হিন্দুর মেয়ে বিয়ে করে—হিন্দুর ঘরে যায়;চেলি পরে হলুদ মেখে,নারায়ণকে সাক্ষী রেখে,—ঐ সময়টাই উঠে ডেকে মুরগীগুলো হায়;—বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়।

হায় হায়বিলেত থেকে ফিরে এসে হরিদাস রায়—প্যাণ্ট ছেড়ে, পরেন বেড়ে কালাপেড়ে হায়;–—করুন যা তাঁর আসে মনে,হারাধন সান্ন্যাল ভনেবুদ্ধিমানে রোষ্টচপ টপাটপ খায়;মনের মুখে চুরোট ফুঁকে হোটেল খানায়।

কেন আর এ ভাঙ্গা ঘরে মারিস তোদের সিঁধকাটি।ছিন্ন তরুর মূলে হ’তে কেন তুলে দিস্‌ মাটি।বিষে জ্বর জ্বর প্রাণে কেন হানি’স্‌, বিষবাণ,পাপের বন্যায়ভরা দেশে আনিস্‌ নরক খাল কাটি,কেন শীর্ণ মলিন দুঃখে, মারিস কুঠার মায়ের বুকে।দু’দিন গেলে দিস্‌রে ফেলে, পুরাস প্রাণের আকাঙ্ক্ষাটি।