গৃহ-শত্রু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

চিত্রা

আমি একাকিনী যবে চলি রাজ পথেনব-অভিসার সাজে,নিশীথে নীরব নিখিল ভুবন,না গাহে বিহগ, না চলে পবন,মৌন সকল পৌর ভবনসুপ্ত নগর মাঝে,শুধু আমার নুপুর আমারি চরণেবিমরি বিমরি বাজে;অধীর মুখর শুনিয়া সে স্বরপদে পদে মরি লাজে!

আমি চরণ শব্দ শুনিব বলিয়াবসি বাতায়ন কাছে,—অনিমেষ তারা নিবিড় নিশায়,লহরীর লেশ নাহি যমুনায়,জনহীন পথ আঁধারে মিশায়,পাতাটি কাঁপে না গাছে;শুধু আমারি উরসে আমারি হৃদয়উলসি বিলসি নাচে,

উতলা পাগল করে কলরোলবাঁধন টুটিলে বাঁচে।

আমি কুসুম শয়নে মিলাই সরমে,—মধুর মিলন রাতি;স্তব্ধ যামিনী ঢাকে চারিধার,নির্ব্বাণ দীপ, রুদ্ধ দুয়ার,শ্রাবণ গগন করে হাহাকারতিমির শয়ন পাতি’;শুধু আমার মাণিক আমারি বক্ষেজ্বালায়ে রেখেছে বাতি;কোথায় লুকাই, কেমনে নিবাইনিলাজ ভূষণ ভাতি।

আমি আমার গোপন মরমের কথারেখেছি মরম তলে।মলয় কহিছে আপন কাহিনী,কোকিল গাহিছে আপন রাগিণী,নদী বহি চলে কাঁদি একাকিনীআপনার কলকলে।

শুধু আমার কোলের আমারি বীণাটিগীত ঝঙ্কার ছলেযে কথা যখন করিব গোপনসে কথা তখনি বলে।