স্নেহদৃশ্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

চৈতালি

বয়স বিংশতি হবে, শীর্ণ তনু তারবহু বরষের রোগে অস্থিচর্মসার।হেরি তার উদাসীন হাসিহীন মুখ,মনে হয়, সংসারে লেশমাত্র সুখপারে না সে কোনোমতে করিতে শোষণদিয়ে তার সর্বদেহ সর্বপ্রাণমন।স্বল্পপ্রাণ শীর্ণ দীর্ঘ জীর্ণ দেহভারশিশুসম কক্ষে বহি জননী তাহারআশাহীন দৃঢ়ধৈর্য মৌনম্লানমুখেপ্রতিদিন লয়ে আসে পথের সম্মুখে।আসে যায় রেলগাড়ি, ধায় লোকজন—সে চাঞ্চল্যে মুমূর্ষুর অনাসক্ত মনযদি কিছু ফিরে চায় জগতের পানে,এইটুকু আশা ধরি মা তাহারে আনে।