অলস মনের আকাশেতে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

ছড়া

অলস মনের আকাশেতেপ্রদোষ যখন নামে,কর্মরথের ঘড় ঘড়ানিযে মুহূর্তে থামে,এলােমেলাে ছিন্নচেতনটুকরাে কথার ঝাঁকজানি নে কোন্‌ স্বপ্নরাজেরশুনতে যে পায় ডাক—ছেড়ে আসে কোথা থেকেদিনের বেলার গর্ত,কারাে আছে ভাবের আভাসকারাে বা নেই অর্থ।ঘােলা মনের এই-যে সৃষ্টিআপন অনিয়মেঝিঁঝির ডাকে অকারণেরআসর তাহার জমে।একটুখানি দীপের আলােশিখা যখন কাঁপায়চার দিকে তার হঠাৎ এসেকথার ফড়িং ঝাঁপায়।

পষ্ট আলাের সৃষ্টি-পানেযখন চেয়ে দেখিমনের মধ্যে সন্দেহ হয়।হঠাৎ মাতন এ কী।বাইরে থেকে দেখি একটানিয়ম-ঘেরা মানে,ভিতরে তার রহস্য কীকেউ তা নাহি জানে।খেয়াল-স্রোতের ধারায় কী সবডুবছে এবং ভাসছে—ওরা কী-যে দেয় না জবাবকোথা থেকে আসছে।আছে ওরা এই তাে জানি,বাকিটা সব আঁধার,চলছে খেলা একের সঙ্গেআর-একটাকে বাঁধার।বাঁধনটাকেই অর্থ বলি,বাঁধন ছিঁড়লে তারাকেবল পাগল বস্তুর দলশূন্যেতে দিক্‌হারা॥

উদয়ন৫ জানুয়ারি ১৯৪১