আচ্ছন্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

ছবি ও গান

লতার লাবণ্য যেন কচি কিশলয়ে ঘেরা,সুকুমার প্রাণ তার মাধুরীতে ঢেকেছে,কোমল মুকুলগুলি চারিদিকে আকুলিততারি মাঝে প্রাণ যেন লুকিয়ে রেখেছে।ওরে যেন ভাল ক'রে দেখা যায় না,আঁখি যেন ডুবে গিয়ে কুল পায় না।সাঁঝের আভা নেমে এল, জ্যোৎস্না পাশে ঘুমিয়ে প’ল,ফুলের গন্ধ দেখ্‌তে এসেছে,তারাগুলি ঘিরে বসেছে।পূরবী রাগিণীগুলি দূর হ'তে চ'লে আসেছুঁতে তারে হয়নাক ভরসা,কাছে কাছে ফিরে ফিরে মুখপানে চায় তা'রা,যেন তা'রা মধুময়ী দুরাশা;

ঘুমন্ত প্রাণেরে ঘিরে স্বপ্নগুলি ঘুরে ফিরেগাঁথে যেন আলোকের কুয়াশা,ঢেকে তারে আছে কত, চারিদিকে শত শতঅনিমিষ নয়নের পিয়াসা।ওদের আড়াল থেকে আব্‌ছায়া দেখা যায়অতুলন প্রাণের বিকাশ,সোনার মেঘের মাঝে কচি ঊষা ফোটে ফোটেপূরবেতে তাহারি আভাস।

আলোক-বসনা যেন আপনি সে ঢাকা আছে।আপনার রূপের মাঝার,রেখ রেখা হাসিগুলি আশে পাশে চমকিয়েরূপেতেই লুকায় আবার।আঁখির আলোক ছায়া আঁখিরে রয়েছে ঘিরে,তারি মাঝে দৃষ্টি পথহারা,যেথা চলে, স্বর্গ হতে অবিরাম পড়ে যেনলাবণ্যের পুষ্পবারিধারা।ধরণীরে ছুঁয়ে যেন পা-দুখানি ভেসে যায়কুসুমের স্রোত বহে যায়,কুসুমেরে ফেলে রেখে খেলাধূলা ভুলে গিয়েমায়মুগ্ধ বসন্তের বায়।

ওরে কিছু শুধাইলে বুঝিরে নয়ন মেলিদুদণ্ড নীরবে চেয়ে রবে,

অতুল অধর দুটি, ঈষৎ টুটিয়ে বুঝিঅতি ধীরে দুটি কথা কবে।আমি কি বুঝি সে ভাষা শুনিতে কি পাব বাণীসে যেন কিসের প্রতিধ্বনি,মধুর মোহের মত যেমনি ছুঁইবে প্রাণঘুমায়ে সে পড়িবে অমনি।হৃদয়ের দূর হ'তে সে যেনরে কথা কয়তাই তার অতি মৃদুস্বর,বায়ুর হিল্লোলে তাই আকুল কুমুদ সমকথাগুলি কাঁপে থর থর।

কে তুমি গো ঊষাময়ি, আপন কিরণ দিয়েআপনারে করেছ গোপন,রূপের সাগর মাঝে কোথা তুমি ডুবে আছিএকাকিনী লক্ষ্মীর মতন।ধীরে ধীরে ওঠ দেখি, একবার চেয়ে দেখি,স্বর্ণ-জ্যোতি কমল আসন,সুনীল সলিল হতে ধীরে ধীরে উঠে যথাপ্রভাতের বিমল কিরণ।সৌন্দর্য্য কোরক টুটে এস গো বাহির হয়েঅনুপম সৌরভের প্রায়,আমি তাহে ডুবে যাব সাথে সাথে ব'হে যাবউদাসীন বসন্তের বায়।