প্রবেশক: ধূমকেতু মাঝে মাঝে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

প্রহাসিনী

ধূমকেতু মাঝে মাঝে হাসির ঝাঁটায়দ্যুলোক ঝাঁটিয়ে নিয়ে কৌতুক পাঠায়বিস্মিত সূর্যের সভা ত্বরিতে পারায়ে—পরিহাসচ্ছটা ফেলে সুদূরে হারায়ে,সৌর বিদূষক পায় ছুটি।

আমার জীবনকক্ষে জানি না কী হেতু,মাঝে মাঝে এসে পড়ে খ্যাপা ধূমকেতু—তুচ্ছ প্রলাপের পুচ্ছ শূন্যে দেয় মেলি,ক্ষণতরে কৌতুকের ছেলেখেলা খেলিনেড়ে দেয় গম্ভীরের ঝুঁটি।

এ জগৎ মাঝে মাঝে কোন্ অবকাশেকখনো বা মৃদুস্মিত কভু উচ্চহাসেহেসে ওঠে, দেখা যায় আলোকে ঝলকে—তারা কেহ ধ্রুব নয়, পলকে কেচিহ্ন তার নিয়ে যায় মুছে।

তিমির-আসনে যবে ধ্যানমগ্ন রাতিউল্কাবরিষনকর্তা করে মাতামাতি—দুই হাতে মুঠা মুঠা কৌতুকের কণাছড়ায় হরির লুঠ, নাহি যায় গনা,প্রহর-কয়েকে যায় ঘুচে।

অনেক অদ্ভুত আছে এ বিশ্বসৃষ্টিতেবিধাতার স্নেহ তাহে সহাস্য দৃষ্টিতে।তেমনি হালকা হাসি দেবতার দানেরয়েছে খচিত হয়ে আমার সম্মানে—মূল্য তার মনে মনে জানি।

এত বুড়ো কোনো কালে হব নাকো আমিহাসি-তামাশারে যবে কব ছ্যাবলামি।এ নিয়ে প্রবীণ যদি করে রাগারাগিবিধাতার সাথে তারে করি ভাগাভাগিহাসিতে হাসিতে লব মানি।