মধুসন্ধায়ী (১-৪)
প্রহাসিনী
পাড়ায় কোথাও যদি কোনো মৌচাকেএকটুকু মধু বাকি থাকে,যদি তা পাঠাতে পার ডাকে,বিলাতি সুগার হতে পাব নিস্তার,প্রাতরাশে মধুরিমা হবে বিস্তার।মধুর অভাব যবে অন্তরে বাজে‘গুড়ং দদ্যাৎ’ বাণী বলে কবি-রাজে।দায়ে প'ড়ে তাইলুচি-পাঁউরুটিগুলো গুড় দিয়ে খাই;বিমর্ষমুখে বলি ‘গুড়ং দদ্যাৎ',সে যেন গঘের দেশে আসি পদ্যাৎ।খালি বোতলের পানে চেয়ে চেয়ে চিত্তনিশ্বাস ফেলে বলে, সকলই অনিত্য।সম্ভব হয় যদি এ বোতলটারেপূর্ণতা এনে দিতে পারেদূর হতে তোমার আতিথ্য।গৌড়ী গদ্য হতে মধুময় পদ্যদর্শন দিতে পারে সদ্য॥
তল্লাস করেছিনু, হেথাকার বৃক্ষেরচারি দিকে লক্ষণ মধু-দুর্ভিক্ষের।মৌমাছি বলবান পাহাড়ের ঠাণ্ডার,সেখানেও সম্প্রতি ক্ষীণ মধুভাণ্ডার—হেন দুঃসংবাদ পাওয়া গেছে চিঠিতে।এ বছর বৃথা যাবে মধুলোভ মিটিতে।তবু কাল মধু-লাগি করেছিনু দরবার,আজ ভাবি অর্থ কি আছে দাবি করবার।মৌচাক-রচনায় সুনিপুণ যাহারাতুমি শুধু ভেদ কর তাহাদের পাহারা।মৌমাছি কৃপণতা করে যদি গোড়াতেই,জাস্তি না মেলে তবু খুশি রব থোড়াতেই।তাও কভু সম্ভব না হয় যদিস্যাৎতা হলে তো অবশেষে শুধু গুড় দদ্যাৎ।অনুরোধ না মিটুক মনে নাহি ক্ষোভ নিয়ো,দুর্লভ হলে মধু গুড় হয় লোভনীয়।মধুতে যা ভিটামিন কম বটে গুড়ে তা,পূরণ করিয়া লব টমেটোয় জুড়ে তা।এইভাবে করা ভালো সন্তোষ-আশ্রয়—কোনো অভাবেই কভু তার নাহি নাশ রয়॥
শ্যামল আরণ্য মধু বহি এল ডাক-হরকরা—আজি হতে তিরোহিতা পাণ্ডুবর্ণী বৈলাতী শর্করাপূর্বাহ্ণে পরাহ্ণে মোর ভোজনের আয়োজন থেকে;এ মধু করিব ভোগ রোটিকার স্তরে স্তরে মেখে।যে দাক্ষিণ্য-উৎস হতে উৎসারিত এই মধুরতারসনার রসযোগে অন্তরে পশিবে তার কথা।ভেবেছিনু, অকৃতার্থ হয় যদি তোমার প্রয়াসসস্নেহ আঘাত দিবে তোমারে আমার পরিহাস;তখন তো জানি নাই, গিরীন্দ্রের বন্য মধুকরীতোমার সহায় হয়ে অর্ঘ্যপাত্র দিবে তব ভরি।দেখিনু, বেদের মন্ত্র সফল হয়েছে তব প্রাণে;তোমারে বরিল ধরা মধুময় আশীৰ্বাদ-দানে॥
দূর হতে কয় কবি,‘জয় জয় মাংপবী,কমলাকানন তব না হউক শূন্য।গিরিতটে সমতটেআজি তব যশ রটে,আশারে ছাড়ায়ে বাড়ে তব দানপুণ্য।তোমাদের বনময়অফুরান যেন রয়মৌচাক-রচনায় চিরনৈপুণ্য।কবি প্রাতরাশে তারনা করুক মুখভার,নীরস রুটির গ্রাসে না হোক সে ক্ষুন্ন।'আরবার কয় কবি,‘জয় জয় মাংপবী,টেবিলে এসেছে নেমে তোমার কারুণ্য।রুটি বলে জয়-জয়,লুচিও যে তাই কয়,মধু যে ঘোষণা করে তোমারই তারুণ্য।'