বনবাণী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

বাসাটি বেঁধে আছ মুক্তদ্বারেবটের ছায়াটিতে পথের ধারে।সমুখ দিয়ে যাই- মনেতে ভাবি,তােমার ঘরে ছিল আমারাে দাবি,

হারায়ে ফেলেছি সে ঘূর্ণিবায়েঅনেক কাজে আর অনেক দায়ে।

এখানে পথে-চলা পথিকজনাআপনি এসে বসে অন্যমনাতাহার বসা সেও চলারই তালে,তাহার আনাগোনা সহজ চালে।আসন লঘু তার, অল্প বোঝা-সোজা সে চলে আসে, যায় সে সোজা।

আমি যে ফাঁদি ভিত বিরাম ভুলি,চূড়ার ’পরে চূড়া আকাশে তুলি।আমি যে ভাবনার জটিল জালেবাঁধিয়া নিতে চাই সুদূর কালে—সে জালে আপনারে জড়াই ঠেসে,পথের অধিকার হারাই শেষে।

মুক্তিতত্ত্ব। খসড়া: ১ চৈত্র [১৩৩৩]উদ্‌বোধন। খসড়া: [২-৩ চৈত্র ১৩৩৩]নৃত্য। মূল কবিতা: [২১-২৫ ফাল্গুন ১৩৩৩]বৈশাখ। খসড়া: ১ চৈত্র [১৩৩৩]বৈশাখ-আবাহন। প্রায় গ্রন্থের পাঠ: ২০ ফাল্গুন ১৩৩৩কালবৈশাখী। ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪মাধুরীর ধ্যান। ২০ ফাল্গুন ১৩৩৩পরানে কার ধেয়ান আছে জাগি। ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪ব্যঞ্জনা। খসড়া: ১ চৈত্র [১৩৩৩]আষাঢ়। ১৪ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪লীলা। ১৫ ফাল্গুন ১৩৩৩বর্ষামঙ্গল। খসড়া: ১ চৈত্র [১৩৩৩]যায় রে শ্রাবণকবি। ২ চৈত্র [১৩৩৩]শেষ মিনতি। মূল গান: ১৪ ফাল্গুন ১৩৩৩শ্রাবণ সে যায় চলে পান্থ। ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪শরৎ। ১ চৈত্র [১৩৩৩]শাস্তি। প্রায় গ্রন্থের পাঠ: ২ চৈত্র [১৩৩৩]

শরৎ ডাকে ঘর-ছাড়ানো ডাকা। ১৩ অগ্রহায়ণ [১৩৩৪]শরতের ধ্যান। মূল গান: ১৬ ফাল্গুন ১৩৩৩শরতের বিদায়। খসড়া: ১৪ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪শিউলি ফুল, শিউলি ফুল। [২১-২৫ ফাল্গুন ১৩৩৩]বিলাপ। বিচিত্রার পাঠ: ১৯ ফাল্গুন ১৩৩৩পরিবর্তন:[অগ্রহায়ণ ১৩৩৪]হেমন্তেরে বিভল করে কিসে। ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার। ১৭ ফাল্গুন ১৩৩৩হেমন্ত। [২৯ ফাল্গুন - ১ চৈত্র ১৩৩৩]দীপালি। [২৫-২৮ ফাল্গুন ১৩৩৩]শীতের উদ্‌বোধন। ১৩ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪আসন্ন শীত। [চৈত্র ১৩৩৩ - ৭ বৈশাখ ১৩৩৪]শীত। খসড়া: [২৯ ফাল্গুন ১ চৈত্র ১৩৩৩]সর্বনাশার নিশ্বাসবায়। ১৪ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪স্তব। ১৮ ফাল্গুন ১৩৩৩শীতের বিদায়। খসড়া: [৩-৯ চৈত্র ১৩৩৩]লুকানো রহে না বিপুল মহিমা। ১৪ অগ্রহায়ণ [১৩৩৪]আবাহন। ১৮ ফাল্গুন ১৩৩৩বসন্ত। ২৮ ফাল্গুন ১৩৩৩বসন্তের বিদায়। ২ চৈত্র [১৩৩৩]প্রার্থনা। ২০ ফাল্গুন ১৩৩৩অহৈতুক। ১৯ ফাল্গুন ১৩৩৩মনের মানুষ। ৩ চৈত্র ১৩৩৩চঞ্চল। বিভিন্ন খসড়া: ২৭ ফাল্গুন ১৩৩৩উৎসব। খসড়া: ১৫ অগ্রহায়ণ ১৩৩৪শেষের রঙ। ২৯ ফাল্গুন ১৩৩৩দোল। ২৮ ফাল্গুন ১৩৩৩

হৃদয় আমার, ঐ বুঝি তোর বৈশাখী ঝড় আসেশ্রাবণ, তুমি বাতাসে কার আভাস পেলেশিউলি-ফোটা ফুরালো যেই শীতের বনেশীতের হাওয়ার লাগল নাচন

কেন পান্থ, এ চঞ্চলতা,শূন্য গগনে পাও কার বারতা।নয়ন অতন্দ্র প্রতীক্ষারতকেন উদ্‌ভ্রান্ত অশান্ত-মত—কুন্তলপুঞ্জ অযত্নে নত,ক্লান্ত তড়িৎবধূ তন্দ্রাগতা।ধৈর্য ধরো, সখা, ধৈর্য ধরো—দুঃখে মাধুরী হোক মধুরতর—হেরো গন্ধনিবেদনবেদনসুন্দরমল্লিকা চরণতলে প্রণতা।

আজি এ নূপুর তব যে পথে বাজিয়ে চলচিহ্ন কেমনে তার আপনি ঘুচাবে বলল।

অশােকের রেণুগুলিরাঙাইল যার ধূলিসেখানে শিশিরে তৃণ করিবে কি ছলােছলে।পাতা পড়ে, ফুল ঝরে, যায় ফাগুনের বেলা―দখিনবাতাস যায় শেষ করি শেষ খেলা।তার মাঝে অমৃত কিভরিয়া রহে না সখী।স্বপনের মালা-সম তারাে স্মৃতি টলােমলাে।

চরণরেখা তব যে পথে দিলে লেখিচিহ্ন আজি তারি আপনি ঘুচালে কি।অশােকরেণুগুলিরাঙালাে যার ধূলিতারে যে তৃণতলে আজিকে লীন দেখি?ফুরায় ফুল ফোটা, পাখিও গান ভােলেদখিনবাযু সেও উদাসী যায় চলে।তবু কি ভরি তারেঅমৃত ছিল না রে।স্মরণ তারাে কি গাে মরণে যাবে ঠেকি।

প্রজাপতি, আপন ভুলি ফিরিস ওরেফুলের দলে দুলি দুলি কিসের ঘরে।হাওয়ার বুকে যে চঞ্চলের গােপন বাসাআকাশে তুই বয়ে বেড়াস তারি ভাষা-

অপ্সরী তার ইন্দ্রসভার স্বপ্নগুলিপাঠালো তোর পাখায় ভরে।যে গুণী তার কীতিভাঙার খেলা খেলে,চিকণ রঙের লিখন মুছে হেলায় ফেলে,সুর বাঁধে আর স্বর সে হারায় পলে পলে,গানের ধারা ভোলা স্বরের পথে চলে—ডানাতে তোর পড়ল ঝ'রে।

নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জছায়ায়। ২৬ শ্রাবণ [ ১৩৩৬]আয় আমাদের অঙ্গনে। শান্তিনিকেতন ২ শ্রাবণ ১৩৩৬বক্ষের ধন হে ধরণী, ধরাে। [ জুলাই ১৯২৮ ]হে মেঘ,ইন্দ্রের ভেরী। [ জুলাই ১৯২৮]সৃষ্টির প্রথমবাণী তুমি, হে আলােক। [ জুলাই ১৯২৮ ]হে পবন, কর নাই গৌণ। [ জুলাই ১৯২৮ ]আকাশ. তােমার সহাস উদার দৃষ্টি। [ জুলাই ১৯২৮ ]প্রাণের পাথেয় তব পূর্ণ হােক। খসড়া: ১৩ জুলাই ১৯২৮আহ্বান আসিল মহােৎসবে। শান্তিনিকেতন ১০ শ্রাবণ ১৩৩৬কোন্ পুরাতন প্রাণের টানে। শান্তিনিকেতন ১৩ শ্রাবণ ১৩৩৬ঝড নেবে আয়, আয় রে আমার। শান্তিনিকেতন ৩ শ্রাবণ ১৩৩৬

হৃদয় আমার ঐ বুঝি তাের ফাল্গুনী ঢেউ আসে।বেড়া-ভাঙার মাতন নামে উদ্দাম উল্লাসে।তােমার মােহন এল সােহন বেশে,কুয়াসাভার গেল ভেসে—এল তােমার সাধনধন উদার আশ্বাসে।অরণ্যে তাের সুর ছিল না, বাতাস হিমে ভরা।জীর্ণ পাতায় কীর্ণ কানন, পুষ্পবিহীন ধরা।এবার জাগ্‌ রে হতাশ, আয় রে ছুটেঅবসাদের বাঁধন টুটে-বুঝি এল তােমার পথের সাথি উতল উচ্ছ্বাসে।

বেদনা কী ভাষায় রেমর্মে মর্মরি গুঞ্জরি বাজে।সে বেদনা সমীরে সমীরে সঞ্চারে,চঞ্চল বেগে বিশ্বে দিল দোলা।দিবানিশা আছি নিদ্রাহরা বিরহে,তব নন্দনবন-অঙ্গন-দ্বারে, মনােমােহন বন্ধু,আকুল প্রাণেপারিজাতমালা সুগন্ধ হানে।