বৈশাখের প্রবেশ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

বনবাণী — নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা

নমো নমো, হে বৈরাগী।তপোবহ্নির শিখা জ্বালো জ্বালো,নির্বাণহীন নির্মল আলোঅন্তরে থাক্‌ জাগি।নমো, নমো, হে বৈরাগী।

সম্বােধন

ধূসরবসন, হে বৈশাখ,রক্তলোচন, হে নির্বাক্,শুষ্ক পথের দানব দস্যু,শুষে নিতে চাও হাসি ও অশ্রু,ইঙ্গিতে দাও দারুণ ডাক।

স্তম্ভিত হল সে ডাকে পৃথ্বী,ভাণ্ডারে তার কাঁপিল ভিত্তি,শঙ্কায় তার শুকায় তালু,অট্ট হাসিল মরুর বালু।

হুংকার সেই তপ্ত হাওয়ায়প্রান্তর হতে প্রান্তরে ধায়,দিগ্বধূদের নীরবে কাঁদায়,শূন্যে শূন্যে উড়ায় ধুলিবিজয়পতাকা আকাশে তুলি।

দুহিয়া লয়েছ গগনধেনুরে,ঝরায়ে দিয়েছ শিরীষরেণুরে,উদাস করেছ রাখালবেণুরেতৃষ্ণাকরুণ সারঙ তানে।

শীর্ণ নদীর গেল সঞ্চয়,ঝিরিঝিরি জল ধীরিধীরি বয়,আকুলিয়া উঠে কাননের ভয়ভীরু কপোতের কাকলিগানে।

ধূসরবসন, হে বৈশাখ,রক্তলোচন হে নির্বাক্,শুষ্ক পথের দানব দস্যু,শুষে নিতে চাও হাসি ও অশ্রু,ইঙ্গিতে দাও দারুণ ডাক।

হৃদয় আমার, ঐ বুঝি তোরবৈশাখী ঝড় আসে,বেড়া ভাঙার মাতন নামেউদ্দাম উল্লাসে।মোহন এল ভীষণ বেশেআকাশ-ঢাকা জটিল কেশে,এল তোমার সাধনধনচরম সর্বনাশে।

বাতাসে তোর সুর ছিল না,ছিল তাপে ভরা।পিপাসাতে বুক-ফাটা তোরশুষ্ক কঠিন ধরা।জাগ্‌রে হতাশ, আয় রে ছুটেঅবসাদের বাঁধন টুটে,এল তোমার পথের সাথিবিপুল অট্টহাসে।