শীত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

বনবাণী — নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা

ওগাে শীত, ওগাে শুভ্র, হে তীব্র নির্মম,তােমার উত্তরবায়ু দুরন্ত দুর্দমঅরণ্যের বক্ষ হানে। বনস্পতি যতথরথর কম্পমান, শীর্ষ করি নতআদেশনির্ঘোষ তব মানে। ‘জীর্ণতারমােহবন্ধ ছিন্ন করাে’ এ বাক্য তােমারফিরিছে প্রচার করি জয়ডঙ্কা তবদিকে দিকে। কুঞ্জে কুঞ্জে মৃত্যুর বিপ্লবকরিছে বিকীর্ণ শীর্ণ পর্ণ রাশি রাশিশুন্য নগ্ন করি শাখা, নিঃশেষে বিনাশিঅকালপুষ্পের দুঃসাহস।

হে নির্মল,সংশয়-উদ্‌বিগ্ন চিত্তে পূর্ণ করো বল।মৃত্যু-অঞ্জলিতে ভরাে অমৃতের ধারা,ভীষণের স্পর্শঘাতে করো শঙ্কাহারা,শূন্য করি দাও মন; সর্বস্বান্ত ক্ষতিঅন্তরে ধরুক শান্ত উদাত্ত মুরতিহে বৈরাগী। অতীতের আবর্জনাভার,সঞ্চিত লাঞ্ছনা গ্লানি শ্রান্তি ভ্রান্তি তারসম্মার্জন করি দাও। বসন্তের কবিশূন্যতার শুভ্র পত্রে পূর্ণতার ছবি

লেখে আসি, সে শূন্য তােমারি আয়ােজন,সেইমতাে মাের চিত্তে পূর্ণের আসনমুক্ত করাে রুদ্রহস্তে; কুজ্ঝ্বটিকারাশিরাখুক পুঞ্জিত করি প্রসন্নের হাসি।বাজুক তােমার শঙ্খ মাের বক্ষতলেনিঃশঙ্ক দুর্জয়। কঠোর উদগ্রবলেদুর্বলেরে করাে তিরস্কার; অট্টহাসেনিষ্ঠুর ভাগ্যেরে পরিহাসো; হিমশ্বাসেআরাম করুক ধুলিসাৎ। হে নির্মম,গর্বহরা, সর্বনাশা, নমাে নমাে নম।

শীতের হাওয়ার লাগল নাচনআম্‌লকির এই ডালে ডালে।পাতাগুলি শির্‌শিরিয়েঝরিয়ে দিল তালে তালে।উড়িয়ে দেবার মাতন এসেকাঙাল তারে করল শেষে,তখন তাহার ফলের বাহার।রইল না আর অন্তরালে।

শূন্য করে ভরে-দেওয়াযাহার খেলাতারি লাগি রইনু বসেসারা বেলা।শীতের পরশ থেকে থেকেযায় বুঝি ঐ ডেকে ডেকে,সব খোওয়াবার সময় আমারহবে কখন্ কোন্ সকালে।