ভগ্নহৃদয়
১
হৃদয়ের বনে বনে সূর্য্যমুখী শত শতওই মুখ পানে চেয়ে ফুটিয়া উঠেছে যত।বেঁচে থাকে বেঁচে থাক, শুকায় শুকায়ে যাক্,ওই মুখ পানে তারা চাহিয়া থাকিতে চায়,বেলা অবসান হবে, মুদিয়া আসিবে যবেওই মুখ চেয়ে যেন নীরবে ঝরিয়া যায়!
২
জীবন-সমুদ্রে তব জীবন তটিনী মোরমিশায়েছি একেবারে আনন্দে হইয়ে ভোর,সন্ধ্যার বাতাস লাগি ঊর্ম্মি যত উঠে জাগি,অথবা তরঙ্গ উঠে ঝটিকায় আকুলিয়া,জানে বা না জানে কেউ, জীবনের প্রতি ঢেউমিশিবে—বিরাম পাবে—তোমার চরণে গিয়া।
৩
হয়ত জান না, দেবি, অদৃশ্য বাঁধন দিয়ানিয়মিত পথে এক ফিরাইছ মোর হিয়া।গেছি দুরে, গেছি কাছে, সেই আকর্ষণ আছে,পথভ্রষ্ট হইনাক’ তাহারি অটল বলে,নহিলে হৃদয় মম ছিন্ন ধূমকেতু সমদিশাহারা হইত সে অনন্ত আকাশ তলে।
আজ সাগরের তীরে দাঁড়ায়ে তোমার কাছে;পর পারে মেঘাচ্ছন্ন অন্ধকার দেশ আছে;দিবস ফুরাৰে যবে সে দেশে যাইতে হবে,এ পারে ফেলিয়া যাব আমার তপন শশি,ফুরাইবে গীত গান, অবসাদে ম্ৰিয়মান,সুখ শান্তি অবসান কাঁদিব আঁধারে বসি!
স্নেহের অরুণালোকে খুলিয়া হৃদয় প্রাণ,এ পারে দাঁড়ায়ে, দেবি, গাহিনু যে শেষ গান,তোমারি মনের ছায় সে গান আশ্রয় চায়,একটি নয়ন জল তাহারে করিও দান।আজিকে বিদায় তবে, আবার কি দেখা হবে,পাইয়া স্নেহের আলো হৃদয় গাহিবে গান?