ঘুমের তত্ত্ব
শিশু ভোলানাথ
জাগার থেকে ঘুমোই, আবারঘুমের থেকে জাগি—অনেক সময় ভাবি মনে,কেন, কিসের লাগি।আমাকে, মা, যখন তুমিঘুম পাড়িয়ে রাখতখন তুমি হারিয়ে গিয়েতবু হারাও নাকো।রাতে সূর্য দিনে তারাপাই নে হাজার খুঁজি—তখন তারা ঘুমের সূর্য,ঘুমের তারা বুঝি?শীতের দিনে কনকচাঁপাযায় না দেখা গাছে,ঘুমের মধ্যে লুকিয়ে থাকে—নেই তবুও আছে।
রাজকন্যে থাকে আমারসিঁড়ির নীচের ঘরে।দাদা বলে, ‘দেখিয়ে দে তো,’বিশ্বাস না করে।কিন্তু, মা, তুই জানিস নে কিআমার সে রাজকন্যেঘুমের তলায় তলিয়ে থাকে,দেখি নে সেইজন্যে।
নেই তবুও আছে এমননেই কি কত জিনিস?আমি তাদের অনেক জানি,তুই কি তাদের চিনিস?যেদিন তাদের রাত পোয়াবে,উঠবে চক্ষু মেলি,সেদিন তোমার ঘরে হবেবিষম ঠেলাঠেলি।নাপিত ভায়া, শেয়াল ভায়া,ব্যাঙ্গমা বেঙ্গুমীভিড় করে সব আসবে যখনকী যে করবে তুমি!
তখন তুমি ঘুমিয়ে পোড়ো,আমিই জেগে থেকেনানা রকম খেলায় তাদেরদেব ভুলিয়ে রেখে।তার পরে যেই জাগবে তুমিলাগবে তাদের ঘুম—তখন কোথাও কিচছুই নেইসমস্ত নিজ্ঝুম।