সাত-সমুদ্র-পারে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1861–1941)

শিশু ভোলানাথ

দেখছি না কি নীল মেঘে আজআকাশ অন্ধকার?সাত-সমুদ্র তেরো-নদীআজকে হব পার।নাই গোবিন্দ, নাই মুকুন্দ,নাইকো হরিশ খোঁড়া—তাই ভাবি যে কাকে আমিকরব আমার ঘোড়া।

কাগজ ছিঁড়ে এনেছি এইবাবার খাতা থেকে,নৌকো দে-না বানিয়ে— অমনিদিস মা, ছবি এঁকে।রাগ করবেন বাবা বুঝিদিল্লি থেকে ফিরে?ততক্ষণ যে চলে যাবসাত-সমুদ্র-তীরে।

এমনি কি তোর কাজ আছে মা—কাজ তো রোজই থাকে।বাবার চিঠি এক্খুনি কিদিতেই হবে ডাকে?নাই বা চিঠি ডাকে দিলে,আমার কথা রাখো—আজকে নাহয় বাবার চিঠিমাসি লিখুন-নাকো।

আমার এ যে দরকারি কাজ,বুঝতে পার না কি!দেরি হলেই একেবারেসব যে হবে ফাঁকি!মেঘ কেটে যেই রোদ উঠবেবৃষ্টি বন্ধ হলে,সাত-সমুদ্র তেরো-নদীকোথায় যাবে চলে!